নিজস্ব প্রতিনিধি :
২০১২ সালে শেরপুরে জেলা কৃষক দলের সহসভাপতি ও বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুকে ডিবি হেফাজতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সাবেক পুলিশ সুপার, সাবেক হুইপ, ডিবি ওসি ও যুবলীগ নেতাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর আমলী আদালতে মামলা হয়েছে।
রোববার (১৫ জুন) নিহতের ছেলে মোকারুল ইসলাম মোহন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সুলতান মাহমুদ মিলন মামলাটি জামালপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
আনিছুর রহমান (সাবেক পুলিশ সুপার, শেরপুর),
মহিবুল ইসলাম খান (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার),
নজরুল ইসলাম (সাবেক ডিবি ওসি), জহুরুল ইসলাম (সাবেক ডিবি সেকেন্ড অফিসার),
আতিউর রহমান আতিক (সাবেক এমপি ও হুইপ, শেরপুর-১),
ফাতেমাতুজ জোহরা শ্যামলী (সাবেক এমপি ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী),
এবং শেরপুর জেলা যুবলীগের তরিকুল ইসলাম রাজু, মোঃ শুভ রেজা, আমিরুল ইসলাম, চন্দ্রন সাহা, মাসুদ রানা, সাইদুল ইসলাম (সাইদ), মাহবুবা রহমান (শিমু), হাজী মোশারফ, মনিরুজ্জামান মিলন তালুকদার, শামীম আরা বেগম, সেতু দে-সহ আরও অনেকে।
কী ঘটেছিল ২০১২ সালে?
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় শেরপুর শহরের সজবরখিলা মহল্লা থেকে আবু বক্কর সিদ্দিকী বাচ্চুকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরদিন ৪ ডিসেম্বর রাত আড়াইটার দিকে তাঁর মরদেহ বাড়িতে রেখে যায় পুলিশ।
পরিবারের দাবি, তিনি ডিস ক্যাবল ব্যবসার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর নামে কোনো মামলা ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ও পুলিশের সহযোগিতায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
নিহতের ছেলে মোকারুল ইসলাম মোহন জানান,
> “বাবাকে হত্যার পর পুলিশ পাহারায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। মামলা না করতে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তিন ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। এখন ন্যায়বিচার চাই।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ সজীব রানা বলেন,
> “এই ঘটনায় মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে আদালতে সিআর মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই জামালপুরের ওপর দিয়েছেন।”








