চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকাগামী মহাসড়ক অবরোধ করে শত শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি :
শেরপুরের নকলা উপজেলার বাড়ইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মো. শাকিল মিয়াকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার বাম পা কেটে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
রবিবার (১৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
বাড়ইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি নকলা শহরের পুরাতন সিনেমা হল চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্ষোভ চলাকালে আহত শিক্ষার্থী শাকিলের বাবা আমির হোসেন, মা ভানু বেগম, ফুফু ময়না বেগম, বড় বোন কোকিলা বেগম, তার সহপাঠী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, “চিহ্নিত হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও, এখনও গ্রেফতার হয়নি। এমনকি থানা ও সেনা ক্যাম্পের পাশ দিয়েও তারা দাপটের সাথে যাতায়াত করছে।”
শাকিলের বাবা আমির হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত সহপাঠী হাসিবুল (১৫), তার ভাই মো. অন্তিম (২২), চাচা ইস্রাফিল (৪৯) সহ মোট ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে নকলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি, এমন অভিযোগ করেছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
১৫ জুন হামলার পর শাকিলকে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পঙ্গু হাসপাতাল ও হৃদরোগ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে অবহেলার কারণে পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার বাঁ পা কেটে ফেলতে হয়।
এরপর গত বুধবার শাকিলের বাবা ছেলের কেটে ফেলা পা হাতে নিয়ে নকলা সেনা ক্যাম্পে, থানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং শেরপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিচার দাবি করেন। পরে পুলিশ সেই কাটা পাটি আদালতের মাধ্যমে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে নকলা থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা পলাতক রয়েছে, তবে পুলিশ তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।”
তবে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।








