নিজস্ব প্রতিনিধি :
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীতে বনের ভেতর পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্রের বিরোধিতায় বন বিভাগ ও পরিবেশবাদীদের অবস্থানের মুখে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বন বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এ ইস্যুতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলার দাওধারা এলাকায় অবস্থিত প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত ২২৩ একর জমির মধ্যে রয়েছে ১নং খতিয়ানের খাস জমি এবং ৩২ একর সংরক্ষিত পাথর মহাল। ইতোমধ্যে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণসহ কাজও শুরু হয়। তবে এলাকাটি বন্য হাতির চলাচলের করিডোর হওয়ায় হাতি সংরক্ষণ ও বনাঞ্চল রক্ষার স্বার্থে বন বিভাগ কাজ বন্ধের সুপারিশ করে। এতে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এই পটভূমিতে সোমবার (২৬ মে) এলাকা পরিদর্শনে আসেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং পরিবেশবাদী আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়ন চলতে পারে না। বন দখল, অবৈধ সংযোগ, বালু-পাথর লুট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি বন বিভাগকে আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দ্রুত অপসারণের নির্দেশও দেন।
পরিদর্শন শেষে মধুটিলা ইকোপার্কে যাওয়ার পথে দাওধারা এলাকায় স্থানীয় একদল ব্যক্তি তাঁর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে বনদস্যুদের একাংশ তাদের হুমকি দেয় এবং পরবর্তীতে হামলা চালায়। এতে ছয়জন সাংবাদিক আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
জাহিদুল খান সৌরভ (এখন টিভি ও বাসস), বিপ্লব দে কেটু (বৈশাখী টিভি), নাঈম ইসলাম (বাংলা টিভি), বাবু চক্রবর্তী (সময় টিভি), শাহরিয়ার শাকির (বাংলাদেশের খবর) প্রমুখ।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, “মাঠে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হবেন, এটা গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা। আমরা দ্রুত আইনি পদক্ষেপ দাবি করছি।” প্রশাসনের পক্ষ থেকেও হামলার ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিক সমাজ পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।








