রফিক মজিদ, শেরপুর:
শেরপুর শহরের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মাই সাহেবা জামে মসজিদে প্রতিদিন ছয় শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে ইফতার করছেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পথচারী, দিনমজুর ও সাধারণ মানুষ এখানে ইফতারের সুযোগ পাচ্ছেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে রমজানের শুরু থেকেই এই গণইফতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ইফতারে থাকে খিচুড়ি, বুট, মুড়ি, পিয়াজু, খেজুর ও পানি। ইফতারের কয়েক মিনিট আগে মুসল্লিরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইন ধরে ইফতার গ্রহণ করেন।
প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো এই মসজিদটি সম্প্রতি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এক সময় যেখানে মাত্র ২১ জন নামাজ আদায় করতে পারতেন, সেখানে এখন প্রায় ছয় হাজার মুসল্লির একসাথে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ১০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, “এই ইফতার আয়োজনের জন্য মসজিদের তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হয় না। বরং সহৃদয়বান ব্যক্তি ও সমাজের বৃত্তবানরা অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। এছাড়া ইফতারের সকল কিছুই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রান্না করা হয়। প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইফতার করেন, যা সামাজিক সৌহার্দ্য ও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”
স্থানীয়রা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতিদিন নানা পেশার মানুষ আসেন। এই গণইফতার তাদের জন্য বড় সহায়তা।
শেরপুরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে গণইফতার আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে মসজিদ কমিটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।








