নিউজ ডেস্ক :
শেরপুর সদর খাদ্য গুদামে ভুয়া কৃষক সাজিয়ে ধান সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে গুদামে ধান-চাল সরবরাহকে কেন করে গড়ে উঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর কর্মকাণ্ডের তথ্য।
জানা গেছে, সদরের কসবা নামা পাড়া এলাকার কয়েকশত মানুষের নামে ভুয়া কৃষক সাজিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। পরে ওই ব্যাংক হিসাবগুলিতে সরকারি ধান সংগ্রহের টাকা জমা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে শেরপুর অগ্রণী ব্যাংকে টাকা উত্তোলনর সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে আটক হন দুই যুবক। যদিও কোন অভিযোগকারী না থাকায় পুলিশ তাদেরকে রাতেই ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিষয়টি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারী খাদ্য গুদামে বোরো ধান সংগ্রহে শর্ত জটিলতার কারণে পরাস্ত ধান সরবরাহে কৃষকদের অনীহার সুযোগে গুদামের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠে। সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া কৃষক তৈরি করে তাদের নামে খোলা হয় ব্যাংক হিসাব। একেকটি হিসেবে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা করে জমা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা কোন ধান সরবরাহ করেননি। টাকা তুলতেই শুধু তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কসবা নামা পাড়ার শিল্পি আক্তার বলেন, “আমরা কৃষক নই, আমাদের বলা হয়েছিল সরকার সার-বীজ দেবে। পরে দেখি আমাদের হিসাবেই লাখ টাকা ঢুকেছে!”
শেরপুর সদর থানার ওসি জুবায়েদুল ইসলাম বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযোগকারী না থাকায় আটক দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূইয়া বলেন, “এক এলাকায় এত মানুষের নামে ব্যাংক হিসাব হওয়া সন্দেহজনক। তদন্ত করে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গুদামে নজরদারি ও যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে খাদ্য বিভাগ।








